আমার বাবার নায়ক”চে গুয়েভারা” সেই শৈশব থেকেই আমারও নায়ক! বোধ করি আমার প্রথম প্রেমও হয়েছিলে চে”র সাথে নিরবে নিভৃতে অসম্ভব এক ভালোলাগায়! চে”সাথে আমিও ঘুরেছি কিউবা থেকে বলিভিয়া হয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার বিস্তৃর্ণ ভূমিতে জঙ্গলে বনে দেশে দেশে!
আমার বাবার তারুণ্য দিনের নায়ক ছিলেন চে গুয়েভারা এবং আরেক বিপ্লবী পুরুষ ফিদেল কাস্ত্রো। এই দুই জনই ইতিহাসের অনন্য ব্যক্তিত্ব। এক চে গুয়েভারা একহাতে চিকিৎসকের সেই জরুরি ফাস্ট এইড বক্স অন্যহাতে বিপ্লবের অস্ত্র—বিশ্ব ইতিহাসে এমন বৈপরীত্যের অননঢ চরিত্র দেখা যায় কি? না দেখা যায় না বললেই চলে। তাঁর মত জীবন বাঁচানোর ওথ নেওয়া একজন চিকিৎসক হয়ে উঠেন সশস্ত্র বিপ্লবী। অস্ত্র হাতে সশস্ত্র আন্দোলন সংগ্রামে নেমে তিনি নিপীড়িত বঞ্চিত জনমানুষের জন্য লড়াই করেছেন! ঘটেছে রক্তপাত, সহিংসতা, মৃত্যু। তাই চিকিৎসক হয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের এমন অনন্য চরিত্রের নজির বিশ্বের আর একটিও নেই বললেই চলে।তা
রুণ্যের অদম্য নায়ক আর্নেস্তো চে গুয়েভারা। যিনি ল্যাটিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা থেকে কিউবা, আফ্রিকা থেকে বলিভিয়া শোষণহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তৎপর থেকেছেন। এর জন্য সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের কৌশলে পালিয়ে লুকিয়ে জনপদ থেকে জঙ্গলে জঙ্গলে দেশে দেশে শক্তির বিপরীতে কৌশলে লড়েছেন। পরাক্রমশালী ক্ষমতা ধরদের উৎখাতে বিপ্লবের স্বপ্ন তাঁকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে বিশ্বময়। তিনি ছুটে বেরিয়েছেন একটিই স্বপ্ন দারিদ্র্য দুর্দশা বৈষম্য নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হয়ে। বিপ্লবের পর তিনি কিউবার রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তবে তাঁর দৃষ্টি ছিল আন্তর্জাতিক বিপ্লবের পরিসরেও। কেননা তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, কেবল মাত্র একটি দেশে বিপ্লব সফল করাই সব নয়। বরং বিশ্বের দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন_শোষণ নিপীড়নের শেকড় উপড়ে উপনিবেশিক শাসন শোষণের বীজ উপড়ে ফেলাটাই জরুরি। তাই ল্যাটিন আমেরিকা থেকে বিশ্বের যেখানেই দারিদ্র্য দুর্দশা বৈষম্য সেখানেই তিনি লড়াইয়ের ডাক দিয়ে চেয়েছিলেন। একেবারে উৎপাটন করতে চেয়েছিলেন বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদের নিগুঢ় শেকড়। শোষকদের বিরুদ্ধে বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়াটা খুব জরুরি বলেই মনে করতেন চে গুয়েভারা এবং বিপ্লবের আরেক অগ্নিপুরুষ ফিদেল কাস্ত্রো।
১৯৩০ এর দশকটি অসাধারণ এক দশক৷ প্রাচ্যের ভারতীয় উপমহাদেশে তখন সাহিত্যে সৃজনে নব জাগরণে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম। আর সংস্কৃতির জাগরণে তাদের ক্ষুরধার লেখনি, সাথে আরো কতক সমাজ সংস্কারক ইশ্চরচন্দ্র বিদ্যা সাগর, রাজা রামমোহন রায় মাইকেল মধুসূধন রায় এর মত মতাদর্শ ও সংস্কারের বোদ্ধারা আগে পরে দারুণ ভূমিকা রাখেন।
অন্যদিকো প্রাশ্চাত্যের রাজনীতি সশস্ত্র সংগ্রামে বিপ্লবে আর্জেন্টিনার মার্কসবাদী চিন্তক চিকিৎসক লেখক গেরিলা নেতা আর্নেস্তো চে গুয়েভারা সরব ছিলেন। তাঁর সাথে সহযোগি ছিলেন সমসাময়িক বিশ্বের আরেক বিপ্লবী পুরুষ কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো। এই দৃইয়ে মিলে তখনোর পৃথিবীতে বৈষম্য বিলোপে পরাক্রমশালীদেে বিরুদ্ধে একাই বুদ্ধিদীপ্ত রণকৌশলে গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে জাগ্রত ছিলেন। যেন মানবিক পাহাড়ায় অতন্দ্র প্রহরীর মত বিশ্ব বিপ্লবের স্বনামধন্য ওই দৃই পুরুষ একাই বিশ্বকে বাঁচানোর দায় নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এতো চাট্টিখানি প্রতিরোধ নয়!
শৈশব থেকে দেখেছি আমার আব্বার রাজনৈতিক দর্শন নীতি আদর্শের নায়ক ছিলেন এই দুই ব্যক্তিত্ব। আব্বা আমার আমৃত্যু “চে টুপি” পরে তাঁর তারুণ্য উদ্যোমের মহানায়ক চে গুয়েভারাকেই অনবদ্য করে রেখেছিলেন জীবনভর। সশস্ত্র বিপ্লব সংগ্রামের আরেক বরপুত্র
ফিদেল কাস্ত্রোরা ছিলেন বলেই তাদের সংগ্রাম সশস্ত্র বিপ্লবী কর্মকান্ডে বিশ্বের দেশে সাম্রাজ্যবাদের শক্তিধরেরা বৃটিশ ফরাসী জাপানিজ উপনিবেশিক শাসক শোষকেরা পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য হয়।
বিপ্লবের প্রয়োজনে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য যে চে গুয়েভারা হাতে মেডিক্যাল ইন্সট্রমেন্ট বয়েছেন সেই তিনিই আরেক হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। সমরে শক্তিতে বিশ্বের পরাক্রমশালীদের বিরুদ্ধে অসম লড়াইয়ে জিততে গেরিলা যুদ্ধের কৌশল বলা আবিষ্কারই করেন বিপ্লব সংগ্রামের বরপুত্ররা। আমার বাবার স্বপ্নের নায়া গেরিলা যুদ্ধের কৌশলের কারণে তারুণ্যে মানবাধিকারের চেতনায় নয়া রাজনীতিকে আমার বাবা জীবনভর স্মরণ করে গেছেন জীবনভর।
আজকের দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদিদের যে নগ্ন আগ্রাসন চলছে, চে গুয়েভারা আর ফিদেল কাস্ত্রোর মত বিপ্লবী সংগ্রামী মচনবিক রাজনৈতিক বোধের চেতনা সম্পন্ন বিশ্ব নেতারা থাকতেন তবে নিশ্চয় বদলে যেতে আজকের হালের পৃথিবী। যে চেতনায় চে আর কাস্ত্রো তাদের বিপ্লবের চেতনার দূত হয়ে শুধু একটি দেশকে মুক্ত করেই ক্ষ্যান্ত হতেন না। বরং নয় ল্যাটিন আমেরিকার গন্ডি ছাড়িয়ে এশিয়ায়, আফ্রিকার তৃতীয় বিশ্বের শোষণ বৈষম্যের শিকার দরিদ্র নিপীড়িত জনমানুষের জন্য লড়ে গেছেন। তাঁরা আজ থাকলে তাদের হাত ধরে হয়ত বদলে যেত আজকের অন্যায়ের সীমা ছাড়ানোর পৃথিবীর নগ্নতা।
আজ মেঘের দলে কারুকাজে যেন বাবাকেই দেখছি। আর মনে পড়ছে বাবার সেই তারুণ্য দিনের অদম্য সাহস শক্তি ও মনস্তাত্ত্বিক আঙ্গিক।
❣️ অপার শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসা আমার বাবার তারুণ্যের নায়ক চে গুয়েভারা ফিদেল কাস্ত্রো আপনাদের। বাবাকে স্মরণ করতে গিয়ে আপনাদের মনে পরছে আজ। আমরা কতটা অভাগা এক প্রজন্ম আমরা যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দেখি নাই। কাজী নজরুল ইসলামকে জীবদ্দশায় পাই নাই। দেখা হয়নি চে গুয়েভারা কিংবা ফিদেল কাস্ত্রোর মত মহান বিপ্লবী কোন পুরুষের।
বিঃ দ্রঃ ফোনে চার্য নেই। যে কোন সময় ফোন বন্ধ হয়ে যাবে। বাসায় পৌঁছে পরে পলিশ করছি 🙏
শুভ সন্ধ্যা, ঢাকা ডায়েরি, ৯ আগষ্ট ২০২৬.
#জান্নাতুল #বাকেয়া #কেকা



Discussion about this post