থাইরয়েড ? ওষুধের পাশাপাশি পথ্য কি খাবেন কেন খাবেন?
থাইরয়েড রোগীদের নিয়মিত ওষুধ থেকেই হবে। তবে পাশাপাশি খাওয়াদাওয়ার দিকেও নজর দিতে হবে। পাতে রাখ ৫ ধরনের মাছ। থাইরয়েড থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
থাইরয়েড হরমোনের এদিক-ওদিক হলেও ক্লান্তি, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, মেজাজ বিগড়ে থাকা কিংবা চুল পড়ার মতো নানা সমস্যা একসঙ্গে ভিড় করে। থাইরয়েড মানেই নিয়মিত ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। পছন্দের অনেক খাবারই বাদ দিতে হয়। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, গাদা গাদা ওষুধ খাওয়ার বদলে রোজের খাওয়াদাওয়া নিয়ম মেনে করলেই থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সে জন্য বেছে নিতে পারেন নানা ধরনের মাছ। ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রোটিন সমৃদ্ধ মাছ যেমন ওজন কমাতে পারে, তেমনই থাইরয়েডও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। বাঙালির পছন্দের ৫ মাছে রয়েছে সেই গুণ।
থাইরয়েড হরমোন টি৩ ও টি৪ তৈরিতে দুই খনিজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তা হল সেলেনিয়াম ও আয়োডিন। পাশাপাশি, থাইরয়েডের কারণে শরীরে যে প্রদাহ হয়, তা কমাতে সাহায্য করে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। তাই এমন মাছ খেতে হবে, যাতে এই সবক’টি উপাদান থাকবে।
ভেটকি মাছ
ভেটকি মাছে উচ্চমাত্রায় ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সেলেনিয়াম রয়েছে। সেলেনিয়াম থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ কমাতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। পাশাপাশি, এই মাছে রয়েছে জিঙ্ক যা থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
পাবদা মাছ
হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে বিপাকহার ধীর হয়ে যায়, ফলে হজমে সমস্যা দেখা দেয়। পাবদার মতো মাছ সহজপাচ্য, পাশাপাশি, এই মাছে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন ও সেলেনিয়াম থাকে যা থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
বাটা মাছ
উপকূলীয় ও নোনা জলের কাছাকাছি থাকার কারণে বাটা মাছে প্রাকৃতিক আয়োডিনের পরিমাণ সাধারণ মিষ্টি জলের মাছের চেয়ে বেশি থাকে। থাইরয়েড হরমোন ক্ষরণের মূল ভিত্তি হল আয়োডিন। শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি হলে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে ওঠে এবং হরমোন উৎপাদন কমে যায়। বাটার মতো মাছ খেলে এই সমস্যা কম হয়।
ট্যাংরা মাছ
থাইরয়েড হরমোন সঠিক পরিমাণে তৈরি হতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় আয়োডিন ও সেলেনিয়াম। এই দুই খনিজই ট্যাংরা মাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। এ ছাড়া এই মাছে থাকে ভিটামিন ডি যা অতিরিক্ত ক্লান্তি, হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যা দূর করে।
ইলিশ মাছ
ইলিশে ভরপুর পরিমাণে রয়েছে ওমেগা ৩ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সেলেনিয়াম। থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরে সবচেয়ে বেশি সেলেনিয়াম ধারণ করে। ইলিশের সেলেনিয়াম থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণে মূল অনুঘটক হিসাবে কাজ করে এবং অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায়।








Discussion about this post