সুস্থ কোষ ধ্বংস না করেই ক্যান্সার নির্মূল! চিকিৎসা বিজ্ঞানের নয়া আবিষ্কারের নায়ক বাঙালি চিকিৎসক!
কেমোথেরাপির ধকল মানেই আতঙ্কের এক নাম। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার যন্ত্রণা ভুক্তোভোগীদের জীবন থেকে স্বপ্ন কেড়ে নেয়। হালের নতুন এক গবেষণায় সেই কেমোথেরাপির চিকিৎসা আরো পুঙ্খানুপুঙ্খ ও আরো সুক্ষ্ম সুনিদিষ্ট করার চেষ্টায় সফর হয়েছেন গবেষকেরা। একারণে ক্যান্সারে ভুক্তভোগীরা খানিক নতুননকরে বাঁচার স্বপ্ন দেখতেই পারেন। কেননা এখন এমন এক অগ্রগতির দেখা পেয়েছেন যা কেবল ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করবে। শরীরের বাকি কোষ নিরাপদ থাকবে।
___ এমন খবরের নতুন আশা জাগাচ্ছেন বায়োপ্রকৌশলী ড. রহমান। বায়োইঞ্জিনিয়ারিং, ন্যানোমেডিসিন ও ইমিউনোথেরাপির মেলবন্ধনে তার তৈরি লিপিড-পলিমারভিত্তিক ন্যানো-প্লাটফর্ম শরীরে ‘স্মার্ট গাইডেড মিসাইলের’ মতো কাজ করে।
সুস্থ কোষকে স্পর্শ না করেই নিখুঁতভাবে ক্যান্সার কোষে ওষুধ পৌঁছে দিতে সক্ষম—- চিকিৎসা বিজ্ঞানের এমন অগ্রগতির খবরে নতুন আশা জাগিয়েছেন। ক্যান্সার আর মরণ ঘাতক ব্যাধী নয় বরং ক্যান্সার আক্রান্ত নষ্ট কোষের বিনাশ হবে। সুস্থ কোষের কোন ক্ষতি হবে না।
—-এমনই এক গবেষণা নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানী ড. মফিজুর রহমান। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ডিসিপ্লিন থেকে উচ্চ শিক্ষা শেষ করে এই গবেষক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত। সেখানে বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাউন্ট সাইনাইয়ের আইকান স্কুল অব মেডিসিনের’ ইমিউনোলজি অ্যান্ড ইমিউনোথেরাপি বিভাগে পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে গবেষণারত এই বাঙালি চিকিৎসকের হাত ধরে নতুন আশার আলো পথ দেখাচ্ছে তাবত বিশ্বের ক্যান্সারে ভুক্তভোগী ও গবেষক বিজ্ঞানীদের।
বাঙালি বাংলাদেশি এি গবেষক ন্যানোটেকনোলজি, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ও মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়েছেন। আবিষ্কার করেছেন ক্যান্সার প্রতিরোধের যুগান্তকারী গবেষণা।
গবেষণায় ড. রহমান ও তার সহকর্মীরা ‘সার্চ-কভ-২ এমআরএনএ’ ব্যবহার করে ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপির একটি অভিনব কৌশল আবিষ্কার করেন। এই কৌশলগত পদ্ধতিতে ক্যান্সার কোষে করোনাভাইরাসের ‘স্পাইক প্রোটিন’ তৈরি করার বার্তা পৌঁছে দিতে বিশেষভাবে তৈরি একটি ন্যানোমেডিসিন ব্যবহার করা হয়েছে। ক্যান্সার কোষগুলো যখন স্পাইক প্রোটিন তৈরি করতে শুরু করে, তখন শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা-বা ইমিউন সিস্টেম করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আগে তৈরি হওয়া প্রতিরোধ স্মৃতির -”ইমিউন মেমোরি”র মাধ্যমে টিউমারটিকে শনাক্ত করতে পারে। ফলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া মানবদেহের স্বাভাবিক ইমিউনিটিকে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
এখন দেখার বিষয় এই গবেষণার ফলাফর কিভাবে মাঠপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের সহায়তা দিয়ে তাদের দুর্ভোগ কমায়। নতুন করে বাঁচার লড়াইতে উদ্দীপ্ত করে৷






Discussion about this post