স্বদেশ বিরোধিতাঃ “ঢাকা_মূর্শিদাবাদ” পুরো বাংলা অঞ্চলের মীরজাফর ও দালাদের সুখ বিলাস ছিল খুব সাময়িক_! চূড়ান্ত পরিণতি কি হয়েছিল? আজকের স্বদেশ বিরোধীরা ইতিহাসের বাঁকে নির্মম পরিণতি জেনে কিঞ্চিৎ সুপথে ফিরতে পারেন?!?
⁉️ বৃটিশদের শাসন_শোষণের নির্মম থেকে নির্মমতর দুশো বছরের জগদ্দল পাথর সময় থেকে মুক্তির পর স্ব-শাসনের মাত্র ৭৮ বছর পার হয়েছে! এরই মধ্যে সম্পদশালী ভারতীয় উপমহাদেশে আবার সাম্রাজ্যবাদ ঔপনিবেশবাদী দখলদারদের আনাগোনা! হালের উপনিবেশিক সেই কালো শক্তির নাম “ডিপস্টেট”এদেশের দখল বুঝে নিতে “ভাত ছিটিয়ে কাক ধরছে”! এতে সফলও হয়েছে প্রায় ৯৯ ভাগ! ডিপস্টেটোর এদেশীয় এজেন্টগণ বাড়তি আয়ে আর সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে নিজ ভূমিকে সাদা চামড়ার হাতে তুলে দিতে মরীয়া হয়ে কাজ করছে!
⁉️ নীরদচন্দ্র চৌধুরী তাঁর বহুল আলোচিত সমালোচিত সেই “আত্মঘাতী বাঙালি” বইতে বাঙালিদের স্বভাব ধরণের ভিত্তিতে
উল্লেখ্য সেই কালজয়ী বক্তব্য “বাঙালি নিজ দেশকেও শাসনের ক্ষমতা রাখে না”। সঙ্গত কারণেই আজ শুধু বাঙালি না উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশ জাতিগোষ্ঠীর মরস্তত্ত্বাপ ও আচরণে নিজস্ব বা স্বজাতির প্রতি বিদ্বেষ হিংসা জেলাসের চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। এতদ অঞ্চলের আন্তঃ রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি যেন চোখে আঙ্গল দিয়ে বলছে–“স্বজাতির একতরফা ক্ষমতার চেয়ে ভিন্নদেশী প্রভুত্বই ভালো।” বাংলাদেশ থোকে পুরো ভারতীয় অঞ্চল আবারো সাদা চামড়ার শাসনে শোষনের আবাসভূমি হবে তাতে আর সন্দেহ কি? কেননা এজাতির মনস্তাত্ত্বিক বোধে সাদা আর ভিন্নদেশ প্রীতি রক্তে রক্তে ? তারই বর্হিপ্রকাশ দেশে দেশে জনমানুষের আচরণ_লক্ষণ ও তাদের মনস্তত্ত্বে সেটাই জানান দিচ্ছে আজ জোরে সোরে!?! মুনাফেফ সুবিধাবাদী চরিত্রেরা নিজের বেতাল অর্থ_সুযোগ_সুবিধাপ্রাপ্তির নেশায় নিজ দেশ ও স্বদেশের জমিন ভীনদেশী সাম্রাজ্যবাদী মাফিয়াদের কাছে তুলে দিচ্ছে! হুবহু ১৭৫৭ সালের পরবর্তীতে ইংরেজদের শাসনক্ষমতা কব্জায় নেওয়ার সেই প্রেক্ষাপট!
⁉️ ঢাকার শেষ সুবেদার ছিলেন সম্রাট আরওঙ্গজেবেন নাতি আজিম উশ শান। তিনি ছিলেন একটু বেশিই লোভী। ফলে তিনি নিজেই ব্যবসা শুরু করেন। এখবরে খুব্ধ হন সম্রাট আরওঙ্গজেব। মূলত মোঘলদের প্রশাসন বিভক্ত ছিল দুই ভাগে “সামরিক বিভাগ” এবং “রাজস্ব বিভাগ”। সেই “রাজস্ব বিভাগকে” বলা হতো “দিওয়ানী বিভাগ”। সেই “দিওয়ানী বিভাগের” দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল করতলব খাঁকে। তাঁকে “দিওয়ান” নিযুক্ত করার বাংলার সুবেদার আজিম উশ শান খুব্ধ হন। তাই প্রকাশ্যে রাজপথে একদিন সুবেদারের প্রহরীরা করতলব খাঁকে আক্রমন করেন। সে যাত্রায় তিনি সাহসের সাথে মোকাবেলা করে বেঁচে গেলেন বটে। তবে তিনি এও বুঝলেন যে, সুবেদারের সাথে একত্রে থাকা সম্ভব হবে না। তিনি সম্রাটের সাথে পরামর্শ করে “বাংলার দিওয়ানি” সরিয়ে নিলেন মূর্শিদাবাদে। দিল্লির সম্রাট আরওঙ্গজেবের নির্দেশ বাংলার সুবেদার আজিম উশ শানকে ঢাকা ছেড়ে যেতে হয়েছিল পাটনায়। লোভী অর্থলিপ্সু আজিম উশ শান ঢাকায় তার প্রতিনিধি হিসেবে রেখে গেলেন তারই ছেলে ফররুখ শিয়ারকে।
⁉️ ঘটনা এখানেই থোমে থাকে নি। কূটকৌশল কিভাবে বাংলার পুরো কতৃর্ত্ব ইংরেজি শাসনের হাতে চলে যায় আর আজকের মতই “ডিপস্টেটের” পকেটবন্দি দালাল ও এদেশীয় সুবিধাবাদী নাগরিকদের পরিণতি কি হয়েছিল ইতিহাসের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে। ঐতিহাসিক সত্যের আলোকে পলাশীর পরাজয়ের পরের পরিস্থিতি খানিক সংক্ষিপ্তকারে তুলে ধরি। আজকের মতই ১৭৫৭ সাল পরবর্তী সেই “ঢাকা মূর্শিদাবাদসহ” পুরো বাংলা অঞ্চলের অর্থলিপ্সু চরিত্রগুলো_সুবিধাবাদী_দালাল মীরজাফর ও মুনাফেকরা দালালি করার টাকায় কদিনের সুখ দেখেছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তাদের দেশ বিরোধীতা করার অনৈতিক কাজের পরিণতি ইতিহাসের বাঁকে স্বাক্ষী। দালাল সুবিধাবাদীরা সাময়িক ইংরেজদের গুড বুকে থাকলেও পরবর্তীতে ছিটকে গিয়েছে। এমনভাবে সম্মানহানিতে হাস্যকর চরিত্র পরিণত হয়েছিলে তার লেখনি ইতিহাসের পরতে পরতে! সেই সব লেখাই আজ সামনে আসা উচিত বেশি বেশি। যদিও সঙ্গত কারনেই বিজয়ে ইতিহাস সামনে আসে লেখাঃ বেশি। তাই দালান দূর্ণীতিবাজ, মুনাফেকদের সেই লজ্জার পরিণতি খুব একটা সামনে আসে নি। বৃটিশ বেনিয়াদের লেজুড়বৃত্তিক ধামাধরারা চাই নাই পরাজিতের পিছে বেঈমানদের চরিত্রগুলোর মুখোশ উন্মোচিত হোক। স্বদেশ_স্বাধীনতার বিরোধীতাকারীদের পরিণতি জনস্মুখে আসুক। তথাপিও ঐতিহাসিক ভাবেই স্বীকৃত যে, স্বদেশ বিরোধী দালালী মোনাফেকিতে অর্জিত_আয়_অর্থ দীর্ঘমেয়াদে কোন কাজেই আসেনি। আর তাহাদের করুণ পরিণতির মানুষ কথা ভুলে গেলেও ইতিহাসের কাঠগড়ায় স্বাক্ষ দিচ্ছে।
⁉️ সেকালের ইংরেজ প্রেমী দালালেরা যাহারা হঠাৎ ই অর্থশালী হওয়া বাঙালি মুসলিম_ও_সনাতন নির্বিশেষে সুবিধাবাদী এক শ্রেণীর জন্ম দিয়েছিল। তবে তাদের শেষকালে স্বদেশ স্বাধীনতার বিরুদ্ধো চারণের ফলফল ভোগ করেছিল পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের টোটাল জনগন। এর সামাজিক, রাজনৈতিক, আর্থিক_ মনস্তত্ত্বিক সর্বপরি দু”শো বছরের পরাধীনতার জগদ্দল পাথর চাপায় পরে পুরো অঞ্চল। সেই সময়ই দালাল সুবিধাবাদী নাগরিক সুশীলরা বৃটিশ বেনিয়া বহিরাগত ইংরেজ ডাচ, ওলন্দাজ আর্মেনীয়দের বয়কট না করে তাদের সাথে সাথেই চলেছে। ব্যবসার নামে নিজ ভূমিকে অরক্ষিত করেছে। জাস্ট সুযোগ সুবিধা পদ পদবি ও ইংরেজি জানা সাদা চামড়ার সাথে আতিথিয়েতার নামে নিজের সামাজিক মর্যদা বাগানোর অভিপ্রায়ে৷ ঠিক আজকের মত “দাড়_কাক_লেখক_কবি গবেষক_শিক্ষক_সাংবাদিক_আমলা_গামলা_এমপি মন্ত্রী হবার দৌড়ে শুধুমাত্র নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে। পুরো জাতিকে পরাধীনতার শেকলে বেঁধেছে। সৃষ্টির সবচেয়ে পুরানো পেশা যা আদিকাল থেকেই ছিলো বি সেই দালাল বা শুদ্ধস্বরে “মিডলম্যান” বা “মধ্যসত্তভোগী” যা সময়ের সাথে আরো নিখঁহদত হয়েছে (হালের একবিংশ শতকে যারা কাজ টেন্ডার পাঠয়ে দেবার কমিশন বানিয্যে লিপ্ত ছিল) সেই কমিশন বানিজ্যখোর সুশীল সমাজ ডিপস্টেটের অর্থে নিজ দেশের বন্দর শহর নদীর বাঁধ সড়ক নির্মানের সত্ত কমিশনের বিনিময়ে বহিরাগত শত্রুর হাতে তুলে দিচ্ছে। তাহারা বহিরাগত ব্যবসায়ীদের পথ ঘাট চিনিয়ে সাথে মিলে মিশে কতক কামিয়ে পুরো দেশটিকেই একদা তুলে দিবে পরাধীনতার বলিতে! দালালেরা এরই মধ্যে ইউরোপ আমেরিকার পালানোর পথে তৈনি করেছে বা করার কাজে কোমর বেধে নেমেছে। দু_চার দিন হতে বছরে পগার পার হবে তাতে সন্দেহ নেই।
⁉️ আজকের স্বদেশ_স্বাধীনতার দালালেরা হয়ত পলাশীর প্রান্তরের সেদিনের বিশ্বাঘাতকদের উত্তরসূরির ন্যায় নাম ভূমিকায়। যোগসূত্রতা খুঁজতে গেলে হয়ত সত্যতা মিলতেই পারে। সেই নেমক হারাম_মীরজাফর_মোহনলালে_ঘোষেটি বেগমদের ইংরেজদের কাছে ঘনিয়ে বসে সাময়িক সুযোগ_নজরানা জুটেছিল বটে। তাদের কেউ কেউ প্রাণে বেঁচে গিয়ে রাজসীক জীবন থেকে ঘৃণার দয়া দান দীক্ষায় করুণ সময় ইংরেজদের মাসিক যৎসামান্য মাসোহারায় ধুঁকে ধুঁকে বেঁচেছিল। যে জীবন তাদের মনে করিয়ে দিতো তাদের স্বদেশ স্বাধীনতার প্রতি বিশ্বাস ভঙ্গের করুণ অপরাধের ঘৃন্য কৃতকাজ। অন্যদিকে তখনের সমাজে রোজের জীবনে প্রতিষ্টিত ঘৃণার বর্হিপ্রকাশ দেখেছে নিত্যদি। তথাপিও দালাল সুবিধাবাদী নাগরিক সুশীলরা (আজকের ভাষায়) দেশদ্রোহী হিসেবে তাদের নাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেঁথে আছে ইতিহাসের পাতাায় পাতায়! তৎকালের সমাজের পরতে পরতে জনমনের গভীর পাকাপোক্ত ভাবেই। কালোর কপোলে সেই ঘৃণা আরো গভীরে গিয়ে শেকড় গজিয়ে টিকে আছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। ১৭৫৭ থেকে একবিংশ শতকের আজকের সেই একই ধারায় বইছে বাঙালি জাতিসত্তার কতকের মধ্যে বিশ্বাস ভঙ্গের সেই ঘৃণ ধারা। যাহার বর্হিপ্রকাশ গুপ্ত_সুপ্ত_মুনাফেকির আজকের নগ্ন ভয়াল রুপ স্বরুপ। ইতিহাসের বাঁকে স্বাক্ষী সকল স্বদেশ স্বাধীনতা স্বাজাতির বিরোধীতাকারীদের চূড়ান্ত পরিণতি একযাত্রার অভিন্ন ফলাফল
হবে না এটাই বাস্তবতা! ইতিহাসের ঘটনাক্রম এমনটাই স্বাক্ষী দিচ্ছে। আসুন কষ্ট করে নিচের প্যাড়ায় জানি!
⁉️ পলাশীর যুদ্ধে জয়ী হয়েছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাত্র কয়েকশত বেনিয়া_ বণিক! তার পরই ব্যবসা করার নূন্যতম ল্যাইসেন্স ধারী লালমুখো বেনিয়াই হয়ে উঠে এদেশোর শাসন_শোষণ নির্যাতন নিপীড়নের হর্তাকর্তা। তাও ক্রমশ বাংলা অঞ্চল থেকে ছাপিয়ে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের ক্ষমতা কক্ষিগত করার পালায় রাজদন্ডের হর্তাকর্তা। ততদিনে যমুনার জল গড়িয়ে ইতিহাসের দেওয়াল আরো ক্ষয়েছে! সময় গড়িয়েছে পরের শতাব্দী ১৮০০শতকে।
⁉️ ১৭১৫-১৬ সালে বাংলার রাজধানী শিফট করে চলে যায় মুর্শিদাবাদ। এর পিছে সেই বাংলা অঞ্চলের রাজধানী ঢাকার দেওয়ান করতলব খাঁ! যাকে দিল্লির সম্রাট আরওঙ্গজেব উপাধি দিয়েছিলেন -“মূর্শিদ কূলী খাঁ”। সেই তিনি ঢাকার সুবেদার আজিম উশ শানের সাথে না পেরে তিনি দিল্লির সম্রাট আরওঙ্গজেবের সাথে দেখা করে মূর্শিদাবাদে চলে যান। সেখান থেকেই তিনি দেওয়ানি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এবার ১৭১৫-১৬ সালে তিনি নিজেই হয়ে বসেন বাংলার সুবেদার। ঢাকা থেকে রাজধানী সরিয়ে নিলে মূর্শিদাবাদ হলো বাংলার রাজধানী। নতুন সুবেদার করতলব খাঁ মূর্শিদাবাদে থেকেই শাসন করছেন বাংলা অঞ্চল। তবে এত বড় পূর্ববাংলা মানে আজকের বাংলাদেশ শাসন করবেন কে? তাই সুবেদারের একজন প্রতিনিধির দরকার হয়৷ ঢাকায় স্থাপন করা “নিয়াবত” আর নিয়াবতের প্রধান “নায়েবে নাযিম”। এই “নায়েবে নাজিমদের হয় যাকে বলা হত “ডেপুটি গর্ভণর”।
⁉️ “নায়েবে নাযিম” যায় পূর্ব বাংলা শাসন করেছে ঢাকায় বসে! তবে তাদের হাতে কোন ক্ষমতাই ছিল না। কারণ তখন দেশের হর্তাকর্তা ইংরেজরাই। “নায়েব নাযিমদের”পদটি কিছুদিন রেখেছিল বটে। তবে দেশ শাসন করত ইংরেজরাই। সাম্রাজ্যবাদী ঔপনিবেশবাদ বৃটিশদের সেই ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ” ইন্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি” আস্তে আস্তে বাংলার শাসন ক্ষমতা হাতে তুলে নিচ্ছিল। পূর্ব বাংলার জন্য “নায়েবে নাযিমের”আর খুব দরকার ছিল তা নয়। বরং ইংরেজরা চাচ্ছিল সামনে একজনকে দাঁড় করিয়ে পিছন থেকে কলকাঠি নাড়তে। একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠিান “ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী”বাংলা অঞ্চলের সম্পদের লোভে ব্যবসায়ী থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতার কর্তৃত্ব পুরোপুরি গুছিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত “নায়েব_নাযিম’ বা ডেপুটি গর্ভণর পদ টিকিয়ে রেখেছিল! আর সেদিন তাদের সাথে ছিল ঠিক আজকের মতই সুবিধাভোগী_দালাল অর্থলিপ্সু_চরিত্র_আমলা_এনজিও_লেখক সাহিত্যিক_সাংবাদিক_সুশীল সমাজসহ নানান শ্রেণীপেশার সুবিধাভোগীরা। ১৮৪৩ সাল পর্যন্ত ঢাকার এই নায়েব_নাযিমেরা টিকে ছিলো মান _সম্মান_ক্ষমতা সব হারিয়ে! তাদের পদ পদবি সবই হয়ে উঠেছিল হাস্যকর। কেননা সমাজের সাধারণ নিপাট ভদ্রলোকেরা ভয় ভীতিতে কিছু না বললেও ঠিক আজকের মতই তাদের “ঘৃণা আর ঘৃণাই”করেছে! করেছে অসম্মান আর অবহেলা। সেই গ্লান্তি সইতে পারাটা একজন মানুষ হিসেবে ছিল খুব কঠিন কিছু না? নাকি দালালদের লাজ লজ্জাই থাকেনা। কেননা তাদের চোখ বাঁধা লোভের লালসায়, পিঠ বাঁধা তেলবাহী তৈলমদনে সর্বপরি টাকাই যখন ঈশ্বর তখন টাকা ও আর সব সুযোগের কাছে লজ্জা শরমের পিত্তি গলে যায় থাকে না। তবে তাদের একজনে পরিণতিও ভালো হয় নি। সেই প্রসঙ্গ আরেক লেখায় তুলে ধরা যাবে—-সিরিজ আকারে! আপাতত এই লেখার সূচনার সাথে সমাপ্তির রেশ টানছি!
⁉️ স্বদেশ_স্বাধীনতা_স্ব-শাসন আমাদের ভালো লাগে না। সাদা চামড়ার ভিন্নদেশী প্রভুই আমাদের পচ্ছন্দের! কিছুদিন ধরেই শহর জুড়ে দেশের নানান প্রান্তে ভিন্ন দেশীয় কতক সাদা, কিংবা একেবারে কালো কিংবা কুঁতকঁতে চোখের বাদামি জনগোষ্ঠীর দলবেধে চলাচলের উল্লেখযোগ্য আনাগোনা দেখছি! বিভিন্ন চ্যানেলে চ্যালেন ভিডিও সমেত প্রতিবেদনে তুলেও ধরা হচ্ছে— তো একটি স্বাধীন দেশের পরদেশীরার কিভাবে কোন আইনবলে কোন বিধি মতে সঙ্গবদ্ধ হয়ে বসত গড়ছে এসবের মানে কি? একটি দেশে ভিন্নদেশী পাঁচ হাজার মানুষ এক সাথে বসবাস করছে! তারা কারা? আবার স্থানীয় কতকের সাথে মিল_ঝুল করে চলছে এর মানে কী?
⁉️ ফি লি স্তি ন রাষ্ট্রে একদা ই* জ* রা*ই *লের “ই হু দী” জনগন ছিল আশ্রিতা। সেই শরণ্নার্থী থেকে ভাড়াটিয়া আরো পরে তারাই আজ ফিলিস্তের বাপ_দাদার ভিটে_ভূমির মালিক? সেই তাহারা
ফি লি স্তি ন জনগোষ্ঠীকে নিজ ভূমি থেকে খেদিয়ে উৎখাত করে আজ মুসলিম জাতিটিকে নৃশংস ভাবে নির্মূলের নীল নকশায় নির্বিচারে যুদ্ধের নামে হত্যা করে চলেছে? কেউ দেখার নেই! একই ঘটনা এদেশেরও ঘটবে? সমুহ সম্ভবনা চারপাশে ঘুরছে নানানা দৃশ্যমান বাস্তবতায়!তখন বৃহৎ স্বার্থের বেড়া ডিঙিয়ে কে বাঁধা দেবেন পাশে দাঁড়াবে বলুন তো!? ফিলিস্তিন জনগনকে নির্মূলের এত অমানবিক পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের কে কবে পাশে থেকে প্রতিবাদ করেছে স্মরণ করুনতো? আপনার দেশে ইতোমধ্যে মোডে মোডে বিপুল সংখ্যক রিক্সাচালকদের বড় অংশ কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা বাস্তব রোজের অভিজ্ঞতায় দেখা! এলাকা ভিত্তিতে সাদা কালো কুুঁতকুঁতে চোখের বামুনাকৃতির বাদামী কাবুলিওয়ালারা রাজধানীর উত্তরায় বিশাল সংঘবদ্ধ বসত গড়েছে! কদিন পরে তাহারা স্থানীয়দের উচ্ছেদ করে বসত গড়বে! বাধা দেবেন কেননা তাদের সাথে জড়িয়ে রয়েছে এদেশের ক্ষমতাসালী ব্যক্তি, গোষ্ঠী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক শক্তির লোকেরা!
⁉️ ভেতো বাঙালি ছোট্ট ছোট্ট নজরানা আর সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে কাবুলিওয়ালারা কাছে নিজেরা কতক সুবিধার জন্য বিকিয়ে যাচ্ছে। ঠিক ১৭৫৭ এর সালে পলাশীর পরাজিত অঞ্চলে বৃটিশ_ডাচ্_ওলন্দাজেরা মিলে কুলে যৌথতায় যুক্ততায় ব্যবসা বিপনন আর স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিল ঠিক একই ধারাই একই তরিকায়!?
⁉️ ইতিহাসের বাঁকে ১৭৫৭ পরবর্তীর কোটি কোটি নির্মম সত্য সব ঘটনা আজ কিভাবে পূনর্রাবৃত্তি হচ্ছে? হচ্ছে একারণে যে বৃটিশদের সাথে তাল মিলিয়ে যে সুবিধাবাদী নাগরিক সমাজের উৎপত্তি হয়েছিল তারাই পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে বৃটিশ বেনিয়া আর সকল ডাচ_ওলন্দাজ নামের বণিকদের এদেশে থাকা খাওয়া ব্যবসা করা নারী ও বিনোদনের ব্যবস্থা করে দিয়ে নিজেরা কামিয়েছে! এদেশীয় এজেন্টদের সব ধরনোর সহযোগিতা ষযড়ন্ত্রে তারা ক্রমশ আরঁ উচ্ছাভিলাসি হয়েছে এদেশের হেড টু টো পর্যন্ত দখলে নিয়ে দুশো বছরোর পাকাপোক্ত শাসন শোষণের পথরেখা তৈরি করে? আজো সেই সুশীল সুবিধাবাদী নাগরিক সমাজের ভাড়াটেদের দাপট দেখছি! সপাটে “নিজ দেশের খুদ খোয়ে ভিন্নদেশীয় প্রভুদের গুণগেয়ে একেবারে তাদের কোলে চড়ে দৌল খেয়েছে!
তবে সেদিন আজকের বাস্তবতাতেও আমরা সেটাই দেখছি! বাস্তবতা বলছে, আরও বেশি দেরি নেই সাম্রাজবাদী প্রভুরা ব্যবসা, জমি আর ক্ষমতার পার্ট পুরোটা বুঝে নিয়ে পায়ের দলায় পিষে দেবে হালের সব দালাল দুর্নীতিবাজ দেশদ্রোহী মুনাফেকদের! যদিও গুপ্ত সুপ্তদের ভূমিকায় গভীর ষড়যন্ত্রে পুরো ‘স্বদেশ স্বাধীনতার” পথ আরো সংকুচিত হযে আমজনতার কবর রচিত হবে— আলামত খুব সন্নিকটে। চোখ কান খোলা রাখুন।
⁉️ বৃটিশদের এদেশের পথ ঘাট ব্যবসা বানিয্যের খাত ক্ষেত্র চিনিয়ে তাদের সাথে ব্যবসা করে ফুঁলেফেঁপে উঠে বনেদি হয়েছ৷ হালের দালালেরা! পরদেশে ভিন্নদেশীয় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসকদের হয়ে ভাড়া খাটা কিছু এদেশীয় জনগন সর্বনাশ করছে নিছক নিজেদের লাভের আশায়। যারা ছোট্ট ছোট্ট লোভের ফাঁদে নিজের আখের গুছাতে গিয়ে নিজ স্বদেশ নিজস্ব পরিচয় ও স্বজাতির বিরুদ্ধে কাজ করছে! চারপাশে ভিন্নদেশী কাবলিওয়ালাদের এদেশী দালালেরা কিভাবে নগ্ন ভাগে রক্ষাকর্তার ভূসিকায় সেই স্বরুট ১৭৫৭ সালের পটভূমি আবারো সামনে তুলে ধরেছে!?
⁉️ সাম্রাজ্যবাদ সম্প্রসারণের ভূমিকায়! যারা আপাতত ভিন্নদেশীয় এজেন্টের কাছ থেকে কিছু নজরানা মানে টাকা কড়ি সাদা চামড়ার সাথে উঠ বসের সুযোগে মনো করছে তাদের স্টেটাস বাড়ছে! হায় রে খোদা এই দালাল সুবিধাবাদী সুশীল সুবিধাবাদী এদেশের নাগরিকদের হাত ধরে দুই সাম্রাজবাদী কাবুলিওয়ালারা একদিন এদেশের জমি কিনবে দ্বিগুন তিনগুন দামে পরে এক সময় লাথি দিয়ে বাঙালি খেদাবে নিশ্চিত দিব্য চোখে দেখতে পাচ্ছি।
⁉️ বাস্তব পরিস্থিতিতে মনে পড়ছে, বিখ্যাত বাঙালি লেখক চিন্তাশীল সাংস্কৃতিক ভাষ্যাকার যিনি বাঙালির স্বভাব নিয়ে কালজয়ী এক মন্তব্য করেছেন। নীরদচন্দ্র চৌধুরী তাঁর “দি অটোবায়োগ্রাফি অব অ্যান আননোন ইন্ডিয়ান’ এবং “আত্মঘাতি বাঙালি” নীরদচন্দ্র চৌধুরী তাঁর বিখ্যাত সেই মন্তব্য করেন! যার ভাবার্থ দাঁড়ায়–“বাঙালি নিজ রাষ্ট পরিচালনার ক্ষমতা রাখে না”। তিনি বাঙালি সমাজকে “আত্মঘাতী” বলেও আখ্যায়িত করেন। তাঁর বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা আছে। তবে অবস্থা দৃষ্টে তাঁর সেই বক্তব্যের সত্যতা যেন দিনের আলোর মত পরিস্কার হচ্ছে ক্রমশ। নীরদচন্দ্র মনে করেন, “বাঙালি সমাজ আত্মঘাতী। বাঙালিরা আবেগ প্রবণ এবং দীর্ঘমেয়াদী শাসন বা শঙ্খলা বজায় রাখার চেয়ে ভাঙ্গনের রাজনীতিতে যত ক্যারিশমা বাঙালির!
⁉️ চারপাশে কত কিছু ঘটে চলেছে! তথাপিও মুনাফেফ সুবিধাবাদী চরিত্রগুলো নিজের বেতাল অর্থ_সুযোগ_সুবিধাপ্রাপ্তির নেশায় নিজের জমিনকে ভীনদেশী সাম্রাজ্যবাদী মাফিয়াদের কাছে তুলে দিচ্ছে! হুবহু ১৭৫৭ সালের প্রেক্ষাপট! বৃটিশ বেনিয়া ও ডাচ ওলন্দাজেরা মিলেকুলে পুরো ভারত বর্ষকে পুরো দু”শো ভারতীয় উপমহাদেশে বিন্তৃর্ণ সম্পদ সহায় দখন করে শোষন করে দুশো বছর শাসন_শোষণে ছিবরা করে ছেড়েছে! গড়ে উঠেছে লন্ডন আ*মে*রি*কার মত নামি দামী শহর।
⁉️ বাংলাদেশ_ভারতের পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ নবাবের পরাজয়। ইন্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বৃটিশ বেনিয়ারা ক্রমশ বাংলা অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে পরে পুরো ভারতীয় উপমহাদেকে ঘিরে ফেলে দখলে নিয়েছে পরের জমিনে পোদ্দারির ব্যবস্থাপনা। আর ভিন্নদেশীয় বৃটিশ_ডাচ_ওলন্দাজদের এদেশীয় রক্ষাকর্তা ছিল স্থানীয় সুবিধাবাদী
নাগরিক সমাজের সুশীল অর্থখোর মূল্যবোধহীন নিজ দেশের বিরুদ্ধে ডিপস্টেটের ভাড়াটে যাহারা। যাদের কাছে টাকাই ঈম্বর—দেশ না! দূরদৃষ্টিতে সামনের ভয়ানক ভবিষ্যৎ দেখবে না তাই চোখে কালো কাপড় বেঁধে ছুটছে টাকা_সুযোগ সুবিধার বিনিময়ের সেই ঈশ্বরের পিছে।
⁉️ স্ব-শাসনের মাত্র ৭৮ বছর পরে আবারো সাদা চামড়ার শাসনে_শোষনের আবাসভূমি হবো ভারতীয় উপমহাদেশ? লক্ষণ ও মানুষের মনস্তত্ত্বে যেন সেটাই জানান দিচ্ছে।
⁉️ শুভ সকাল, ঢাকা ডায়েরি ২৩ জুলাই ২০২৬.
বিঃ দ্রঃ আরো পলিস করবো সময় করে!
#জান্নাতুল #বাকেয়া #কেকা
#photography
#photographychallenge
#photooftheday
#myclick
