চিন্তক, সৃজন, বোদ্ধা চিন্তা ভাবনাকারীদের নিজ গণ্ডির বাইরে বেরুতে হলেই তার “আত্মার আচ্ছাদন”খুলে রেখে যেতে হয়! এটি কিন্তু খুব কঠিন কঠোর এক শাস্তি।
আত্মার খোঁজে কদিন ধরেই ছুটছি! কিন্তু সেই সেলফ হেলফ যেন কাজে আসছেনা। অথচ এক আমি প্রতিদিন পোশাক বদলানোর মত আত্মার পরত বদলানোর প্রয়োজন অনুভব করি কিন্তু পারি না৷ ধরুন যখন কাজ করছি মানে সাংবাদিক পেশাজীবী নিত্যদিন কত রকমের নিউজের স্ক্রিপ্ট লিখছি! হার্ড নিউজ, সফট ও ফিচার আদলে নিউজ। তখন তো চিন্তার মধ্যে শব্দের ব্যবহারে, বাস্তবতার বর্হিপ্রকাশে মাত্রা_ছন্দের পার্থক্য আছে না৷ সেভাবেই রোজের দিনলিপিতে ব্যক্তিগত জীবনাচার, বোধ ও উপলব্ধি এবং অভ্যাসগত নানানা প্যারামিটার আছে না! তো চাইলেই পরতে পরতে সামারে_উইন্টারে কিংবা শরৎ হেমন্তের পালাবদলে আত্মার পরতে আচ্ছাদন বদলানো যায় নাকি?
এই আমিই আবার ঘরে, পথে,স্বজনের ভীড়ে খুব আটপৌড়ে সাধারণ এক নারী। কিন্তু নিজের ভেতরে চিন্তার আমিত্বে আমি ভিন্ন এক সত্তা। যদিও সেই সত্তাটা এই আটপৌড়ে স্বজন সমাজের স্থুলকায় মানুষেরা খুব আমলে নেয় তা নয়। বরং বুঝে বা না বুঝে নিছক চাকরি বা কেরানীর চাকরির সাথে মিলিয়ে গুলিয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে। তবে বাস্তবতা হলো একজন “সাংবাদিক পেশাজীবি হিসেবে নিত্যদিন বোধ, বাস্তবতা ও চিন্তার নিরীখে আলাদা হতে হতে ভিন্ন আরেক সত্তায় পরিণত হয় এটাই চরম এক সত্য।
আবার বাবা, মা কিংবা পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া ডিএনএ চক্রের প্রভাবও অস্বীকার করার উপায় তো নেই! সেদিক দিয়ে ব্যক্তিগত ভাবনার বলয়, চিন্তার কাঠামো, আত্ম_উপলব্ধি এবং মানবিক_জাগতিক বোধ_আত্মীক_অন্বেষাও ভিন্ন এটাও আরেক বাস্তবতা স্বীকার করুণ চাহে না করুণ।
সুতারং কর্মে, চিন্তার পার্থক্যে এবং ব্যক্তিগত চর্চা ও অভ্যাসগত কারণে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতেও বিশদ পার্থক্য রয়েছে৷ যে কারণে কোন একজন সাংবাদিক পেশাজীবি হিসেবে যেভাবে ভাবছে একজন ভিন্ন আরেক পেশার মানুষের ভাবনায় পার্থক্য রয়েছে। কেউ একভাবে ভাবছে, আরেক জনে ভাবছে আরেক ভাবে এটা খুব স্বাভাবিক। এর চেয়েও স্বাভাবিক এই যে, বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের ভাবনার পার্থক্যের চেয়েও কমন পিপল, কমন পেশার কাছাকাছি ভাবতে পারেন। তবে সেখানেও পারসন টু পারসন মত ভিন্নতা থাকলেও কাঠামোগত চিন্তার ধরণে বেশ মিলও থাকতেই পারে।
এই যে ডিসিপ্লানারি চিস্তার বাইরে কাঠামোগত চিন্তা, ব্যক্তি টু ব্যক্তির ধরণ ধারণে উপলব্ধিগত পার্থক্যের চিন্তায় ফোর ডাইমেনশনে ভাবনা সাধারণ দশ বিশ জনের ভাবনার সাথে মিলবে না। বরং ব্যক্তির চিন্তা, দর্শনের নানান ধারায় পার্থক্য গড়ে দেবে। উপরোন্ত ব্যক্তি, লেখক সত্তার হলে একেক জন তাহারা যে যার মত ভাবনায় ঢুবে থাকেন, নিমজ্জিত থাকেন! বিধায় তাদের সেই ভাবনার জগতে সবার প্রবেশাধিকার থাকে না। একইভাবে এটাও নিশ্চিত যে চিন্তার_ভাবে তাহাদের সমাজের আর বিশ_পঞ্চাশ জন বা আর সবার সাথে মেলে না। সুতারং সৃজনশীল ভাবনায় নিমজ্জিত একেক জনের বোধগত উপলব্ধিগত প্রার্থক্যের কারণেই জগতে মত_মতাদর্শ নীতি_নৈতিকতার আদর্শের প্যারামিটারও হবে ভিন্ন ভিন্ন।
বেশিরভাগ সময় ভাবনা গ্রস্ততায় মনে মননের বাহির_ভেতরের স্বরুপও হবে আলাদা! আর এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। এখানেই বিভেদ পার্থক্য বা ভিন্নতা এই যে, বোধে_চিন্তার স্বাধীনতায় সাহসে_স্বতন্ত্র_স্বতস্ফুর্তায় গ্যাপ ঘটেই চলেছে এবং চলবেই। ফলে একটা মানুষ যখন বেশিরভাগ সময় একভাবে ভাবছেন চলছেন এবং তাঁর_তাদের জীবনধারাও সেভাবেই পরিচালিত করছেন। একারণে তাদের নিজস্ব কমফোর্টের জায়গা থেকে বেরিয়ে বার বার তাঁর, তাদের মনো জাগতিক পরিবেশের পরম্পরা থেকে বিচ্যুত হয়েই অন্য আরেক ধরনের মানুষের সাথে কমিউনিকেশন করতে হচ্ছে৷ এটাও চরম বাস্তবতা হলেও আরও কঠোর, কঠিন সত্য যে, এই চিন্তাশীল ব্যক্তিদের মনন সৃজনের আদর_কদরের লোক নেই। তাই হয়ত, সৃজনশীল_সৃষ্টিশীল মানুষের শত্রুর অভাব নেই।
এই চিন্তাশীলদের নিত্যদিন তাঁর চিন্তা মনন সৃজনের জগতের বাইরের গণ্ডিতে যেতে হলেই পোশাক পাল্টানোর মত, মতাদর্শের মত চিন্তার যোগসূত্রতাও পাল্টাতে হয়। হতে হয় “আরেক আমি”। ধরুণ সৃজনশীল চিন্তাশীলেরা হয়ত দাওয়াতে যাচ্ছেন, তখন নিজের মননের আবয়বটা খুলে খুব যতনে ঘরের প্রকোষ্টে লুকিয়ে তবেই যেতে হবে। কেননা অধিকাংশ মানুষই বড্ড আহ্লাদ প্রিয়। ন্যাকা ন্যাকা বোকা বোকা রং ঢংয়ে গা গড়ানো অবয়বই পচ্ছন্দ করে। তাহারা আপনার যতই আপনজন হোক। আপনার চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার বহুমাত্রিক গুণের আদর কদর করবেন না সেটা শতভাগ পরীক্ষীত। সেটা চলে আসছে ধারাবাহিকভাবেই। তাই সেই কতত আগে যখন এত এত ইগো, বা কমপ্লেক্স ছিল না আজকের মত সেই তখনও শেখ সাদি তাঁর রঙ্গিন রং চং’র পোশাককে খাবার ভক্ষণ করানোর কান্ড ঘটিয়ে ছিলেন খোদ রাজসিক দরবারে!
এই যে চিন্তক সৃজন বোদ্ধা চিন্তার গণ্ডিবদ্ধ ভাবনা চিন্তা আচ্ছন্নতার নিজ গণ্ডির বাইরে বেরুতে হলেই তাঁর_তাহাদের আত্মার আচ্ছাদন খুলে রেখে যেতে হয়! এটি কিন্তু খুব কঠিন_কঠোর এক শাস্তি। যতবার আপনি নিজের আঙ্গীক ছেড়ে ভিন্ন কোণে যাবেন ততবারই “আত্মীক আচ্ছাদন পাল্টে পাল্টে বের হতে হবে। এই যে ব্যক্তির অবয়ব, চিন্তার স্বাধীনতা, স্বতন্ত্রতা সবই নানান প্ল্যাটফর্মে রেখে_ঢেকে যেতে হয়। এই যে সৃজনশীল চিন্তকদের তাঁর নিজেদের প্রিয়জনের কাছেও আসা যাওয়ার নানান ফ্ল্যাটফর্মে গিয়ে নিজেকে নিত্য নতুন আচ্ছাদনে আচ্ছাদিত করাটা একটি যাতনাই বটে৷ কেননা ওই সময়েই খুব স্থুল ও বৈষয়িক জগতের সাথে চিন্তক ও সৃজনশীলদের স্থুল বৈষয়িক আহ্লাদো কানেক্ট করাটা খুব সহজ ও সহনীয় কিছু হয় না।
সর্বপরি বোধহীন, স্থুল, বৈষয়িক জগতের সুবিধাবাদী চরিত্রের সাথে যখন, যেখানে যেমন সেরকম ধরণ ধারায় নিমজ্জিত হওয়াটা বড্ড কঠিন। কেননা এক চিন্তা ভাবনার স্বতন্ত্রতার কারণে আর দশ জনের তরলিকৃত অবস্থা থেকে পৃথক করে। যা বিসর্জন দেওয়াটা কঠিন থেকে কঠিনতর। কেননা দিনের অধিকাংশ সময় কিংবা জীবনের বেশির ভাগ সময়, চিন্তা ব্যক্তিত্বে স্বতন্ত্র থেকে হঠাৎ “যখন যেখানে যেমন সেই পাত্রে ধারণ” করাটা খুব সহজ না। সুতারং বাড়ছে ক্রমশই বাড়ছে বিচ্ছিন্নতা। তা স্বজন আত্মীয়ের সাথেই হোক! কিংবা কাছের দূরের এমনকি রোজদিন দেখা হয় সেই তাদের কাছ থেকেও ক্রমশ বিচ্ছিন্নতা চেপে বসেছে!— তবে এভাবেই সমাজ, ধর্ম কর্ম কিংবা স্বজনদের সাথে দূরত্বের পরিধী কমছে না। বরং যোজন যোজন দূরুত্ব বাড়ছে তো বাড়ছেই!
বিচ্ছিন্নতার বিপরীতে নিরবতার গহীনে কি? বিচ্ছিন্নতা থেকেই কি সরব হচ্ছে “মাইক্রো ভায়োলেন্স” লিখছি পরের পর্বে।
ক্রমশঃ
শুভ রাত্রি, ঢাকা ডায়েরি, ১০ আগষ্ট, ২০২৬.
জান্নাতুল #বাকেয়া #কেকা
#বিচ্ছিন্নতা_বিপরীতে_নিরবতা
#মাইক্রো_ভায়োলেন্স_সরবতা
#fbpost #myclick #photograp
