জীবনের ওপারে কি? অন্ধকার নাকি পুনরুত্থান না কর্মফলের পুরস্কার তিরস্কার⁉️
পরকালের চিন্তা মনে মনে! অন্যদিকে ভোগের দাসত্বে জীবন!’কালেকালে নানান নান্দনিক ভোগের আয়োজনে বিকশিত বিজ্ঞান প্রযুক্তির আজকের উৎকর্ষের জগৎ_সংসার ! মৃত্যু ঠেকানো কিংবা মৃত্যুর পরের জীবন কি সত্যিই কর্মের বিবেচনায় পরিণতি ভোগ করবে? তথাপিও পরকালের পরিণতির এমন চিন্তা বুক পকেটে রেখে প্রায় অধিকাংশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে বিলাসী পার্থিব জগতের মাহাত্ম্য! এটি দেশ কাল সংস্কৃতি সকল জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আজকের পৃথিবীর সত্যিকারের বাস্তবতা।
তথাপিও ধর্মের কলবাতাসে নাড়িয়ে কঠিন কঠোর মনোবৃত্তির শক্তিশালী পক্ষো অপেক্ষাকৃত দুর্বলদের ভয়ে_ভীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করে শাসন_শোষণ করে চলেছে। শান্তির ধর্ম ইসলামে পরকালের পরিণতি তো মৌলিক ধর্ম বিশ্বাসেরই ভিত্তি। “চার পাশে যাই ঘটুক সেই বিশ্বাসে মিলাবে বন্তু তর্কে বহুদূর।”
পবিত্র কোরআনে জান্নাত জাহান্নাম ইহকালের চেয়ে পরকালের প্রতি বিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে মজার বিষয়ঃ সেই প্রাচীনকালে সব ধর্মেই জান্নাত-জাহান্নামের স্বরুপে সৎ_অসৎ_অনৈতিক_নৈতিকতার শাস্তি বা পুরুস্কারের ধারনা ছিল না।
যদিও প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায়
সৎ হলে সুখের জগতে যাওয়ার ধারনা ছিল। মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় ধারনা ছিল মৃৃতরা এক অন্ধকার জগতে বসতে চলে যেত।
প্রাচীন গ্রিসে ভালো ও মন্দ মানুষ এমন ধারণার ভিত্তিতে আলাদা পরিণতির বিষয়ে খানিক ধারণা আসে। প্রাচীন ইহুদী দর্মে মৃত্যুর পরে সবাই মৃত্যলোকে যায় এমন ধারণা ছিল।
কিন্তু খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে যখন রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটে তখন নতুন ধারণার উদ্ভব হয়। বলা হয় এতদিন ইশ্বর মৃতদের পুনরায় জীবন দেবেন বিচার হবে। যারা সৎ কর্ম করবে তাদের ফল ভালো হবে যাহারা অসৎ কাজ করবে তাহাদের শাস্তি হবে। এই ধারণাই খ্রিষ্চান ও ইসলাম ধর্মে আরো সুস্পষ্ট হয়ে জোরদার হয়।
কালেকালে এই ধারণা কিভাবে বিকশিত হয়েছে সেই ভাবের বিশ্লেষণে মধ্যযুগের ধর্মচর্চায় দিকে নজর দিতে হয৷ কেননা মধ্যযুগে ইউরোপে চার্চগুলো শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছিল না। বরং চার্চগুলো ছিল অত্যান্ত শক্তি ধর এক কাঠামো। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে একটি অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি। রাজাদের রাজসিক বৈধতা দেওয়া, আইন জারি, জমির মালিক সবই ছিল চার্চকেন্দ্রীক। মূলত চার্চের প্রভাব ছিল অসম্ভব রকমের। ওই সময় পরকালের চিন্তা ও ধারনা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। তখন বিশ্বাস করা হয় জাগতিক জীবনে মানুষের আচরণই মৃত্যুর পরের তার পরিণতি নির্ধারণ করবে।
একটা পর্যায়ে গিয়ে মানুষের পার্থিব জীবন, মানুষের উদ্ভাবনী চিন্তার কল্যাণে শিল্প বিপ্লবের চরম উত্থান, বিজ্ঞান প্রযুক্তির প্রসার ও মানবিক চিন্তার নানান দিক নতুন নতুন উত্তরোরণ ঘটেছে। তথাপিও মানুষের মধ্যে পরকাল ও মৃত্যুর পর পরিণতিঃ শাস্তি জান্নাত, জাহান্নাম পরিণতির ধারণার বিলুপ্তি ঘটেনি বটে এই নশ্বর পৃথিবীর জীবন যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেই ধারণাটি আরো পাকাপোক্ত হয়ে উঠে!
জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎকর্ষে দামী হয়ে উঠা জীবনের কদর বাড়ে চক্রবৃদ্ধি হারে দ্বিগুণ শতগুণ হারে। সমান্ত্ররালে পাশাপাশি সাথে সাথে চলেছে জান্নাত_জাহান্নাম_ইহকাল পরকালের_চিন্তা। কে সৎ কে অসৎ, কে ভালো কেহ বা মন্দ, ন্যায় অন্যায়ের ফয়সালা হবে মৃত্যুর পরের পরিণতিতে!
কষ্টকর হলেও সত্য একদল সভ্য সুশূল নাগরিক সমাজের প্রতিভূরা ইহকাল পরকাল জান্নাত_জাহান্নাম এই চিন্তা পকেটে পুরে চলে বটে! তবে ভোগ বিলাস আর চিত্তের সুখে বিত্তের বাহুল্য কোনটাই ত্যাগ করে না। বরং চিন্তার চেয়ে ভোগের বাহুল্যে ভোগী লোভী উচ্চাভিলাষী বিত্তের চিত্তকে নম নম কর করেই বিকাতে থাকে।
জান্নাত-জাহান্নামের বাটখারাতে বিকাতে থাকে দুর্বলের চিত্তের ভয়! সেউ ইুরোপের চার্চের ন্যায় ক্ষমতার দণ্ডে হাতিয়ার হয় ধর্মের দণ্ডমুণ্ডের হর্তাকর্তারা।
শান্তির ধর্ম ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসে সত্যিকারের আস্থাশীলরা জান্নাত জাহান্নামের বিকিকিনি ছাড়াই পারিবারিক ঐতিহ্য জীবনাচারে সৎ অসৎ ভালোমন্দের বিচারে মানবজীবনের পরিণতিতে পুরস্কার কিংবা তিরস্কার হবেই হবে। এর বাইরে প্রকৃতি তার টিকে থাকার কৌশলেঃ সবসময়ই ভালো_নান্দনিকতাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।
হাজারো প্রমাণের ভীড়ে জীবনঘনিষ্ঠ এক প্রমাণ মাতৃগর্ভে অসম্পূর্ণ ও ক্রুটিপূর্ণ সন্তান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাসটেইন করে না। তাই হয়ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই অপরিণত_অসম্পূর্ণ “মানব ভ্রণ” প্রাকৃতিক ভাবেই মিসক্যারেজ হয়ে যায়। এটাই প্রকৃতির ভারসাম্য রাখার চিরন্তন নিজস্বতা।
সুতারং সৎ_ভালো_স্নিগ্ধ_শালীন সত্য_সুন্দরের জয়ের মতই ভালো মন্দের পরিণতিও পূর্বনির্ধারিত! তাই জান্নাত জাহান্নামে আগুন কিংবা সৎ_অসৎ এর ইহজগতেই পরিণাম মেলে! শান্তির ধর্ম ইসলামে পরকালের পরিণতি তো মৌলিক ধর্ম বিশ্বাসেরই ভিত্তি। “চার পাশে যাই ঘটুক সেই বিশ্বাসে মিলাবে বন্তু তর্কে বহুদূর।”
৪ আগষ্ট, ২০২৬.
#জান্নাতুল #বাকেয়া #কেকা
#fbreels #myclick #photographychallenge
#photooftheday
#photography
